চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৪ জানুয়ারি (পৌষ সংক্রান্তি) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘শুক্লাম্বর দিঘির মেলা’।
শত বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে ঘিরে পুরো বরমা এলাকা এখন যেন এক উৎসবের জনপদে পরিণত হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, সাধক শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর নামানুসারেই এই দিঘি ও মেলার নামকরণ করা হয়।
প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তি ও মাঘী পূর্ণিমা তিথিকে ঘিরে নিয়মিতভাবে এই মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে। এটি শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নয়, বরং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এক অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দিঘির চারপাশজুড়ে বসেছে শত শত দোকান। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, শিশুদের খেলনা, বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র এবং নানা ধরনের মিষ্টান্ন মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা যায়। বিশেষ করে মেলার বিন্নি চালের খই, তিলের নাড়ু ও মচমচে জিলাপির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
মেলায় আসা অরুণ কান্তি দাশ জানান, মনের বাসনা বা মানত পূরণের আশায় তিনি বটগাছের ডালে রঙিন সুতা বেঁধে দিয়েছেন। সন্ধ্যার আবহে বটবৃক্ষের চারপাশে শত শত মোমবাতি, মাটির প্রদীপ ও আগরবাতির আলোয় ঝলমলিয়ে উঠতে দেখা গেছে। অনেক পুণ্যার্থীকে ভক্তিভরে বটবৃক্ষের গোড়ায় দুধ ও ফুল অর্পণ করতে দেখা যায়।
মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি হারাধন বলেন, ‘শুক্লাম্বর দিঘির মেলা আমাদের এই অঞ্চলের শত বছরের পুরোনো এক কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি এই মেলাকে ঘিরে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়, তা সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, শৌচাগার এবং বিশ্রামের সুব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মেলা প্রাঙ্গণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা চাই, এই মেলার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক।’
-20260114201239.webp)

