ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে মাঠে আনসার–ভিডিপি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ।

এর ধারাবাহিকতায় আজ চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলার ২৫ হাজার ৫৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭ হাজার ৭১৪ জন সদস্য ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির উদ্যোগে এবারই প্রথম আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিটি সদস্য একজন সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি এবং জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই কোনো সদস্যকে নিজ ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা কোনো বিশেষ পক্ষের নন; তারা নৈতিকতার আমানত রক্ষার কারিগর।

সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে যাতে জাতির জন্য কোনো দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

মহাপরিচালক জানান, এবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্র থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল তদারকি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি জানান, আজ ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) থেকেই নির্বাচনি স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সকল আনসার ও ভিডিপি সদস্যের মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যকে কোনো প্রকার ভয়, দ্বিধা বা প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

নির্বাচনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মহাপরিচালক। দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো মাধ্যমে শেয়ার করা থেকে সদস্যদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবার এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে খাবারের টাকা ও ভাতা সরাসরি সদস্যদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা কার্যকরভাবে বন্ধ হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশ্বাস, প্রতিটি সদস্যের সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার ওপরই নির্ভর করছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া। আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, কঠোর শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের দৃঢ় প্রত্যয়ের সমন্বয়ে আনসার ও ভিডিপির এই প্রস্তুতি শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনেই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে কেন্দ্র করে আনসার ও ভিডিপির এই আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মহাপরিচালক।