চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থীর মধ্যে। ভোটারদের তীব্র মেরুকরণের কারণে অন্যান্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পাননি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের অনুপাতে এই ন্যূনতম কোটা পূরণে ব্যর্থ হন পাঁচজন প্রার্থী।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদ বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এলডিপির প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম হলেও, পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের ভোটের ব্যবধান ছিল ব্যাপক।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—
- স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল প্রতীক) — ৩,৬৩০ ভোট
- শফিকুল ইসলাম রাহী (মোটরসাইকেল প্রতীক) — ১,১৬৫ ভোট
- ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা সোলাইমান ফারুকী (মোমবাতি প্রতীক) — ২,২৯৯ ভোট
- জাতীয় পার্টির বাদশা মিয়া (লাঙ্গল প্রতীক) — ২৯৩ ভোট
- ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুল হামিদ (হাতপাখা প্রতীক) — ১,৫৩৯ ভোট
- ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচ এম ইলিয়াছ (আপেল প্রতীক) — ১৪৯ ভোট
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ভোটাররা মূলত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যেই তাদের রায় সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ফলে তৃতীয় কোনো পক্ষ উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। ছোট দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও প্রচারণার ঘাটতিও জামানত হারানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক মুখও জামানত হারানো প্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

