ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে আবারও গুলি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। প্রথম ঘটনার পর থেকে বাড়িটিতে পুলিশ পাহারা বসানো হলেও তখন কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন অস্ত্রধারী বাসার সামনে এসে গুলি ছোড়ে। পুলিশ জানায়, তাদের একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। অন্য তিনজনের মধ্যে একজন সাবমেশিনগান (এসএমজি), একজন চায়নিজ রাইফেল এবং অপরজন শটগান থেকে গুলি চালায়। তারা ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে নামাজ পড়ে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি শুরু করে।’

তিনি জানান, ‘নিরাপত্তারক্ষী বিষয়টি টের পেয়ে বাসায় পাহারায় থাকা পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্যকে অবহিত করেন। পুলিশ সদস্যরা দোতলায় উঠে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তার আগেই সন্ত্রাসীরা দ্রুত সরে পড়ে।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা করে কী হবে? পুলিশ তো ছিল, এর মধ্যেই গুলি করেছে।’

ঘটনার পর নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, ‘সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে এলাকায় আসে। গাড়ি কিছু দূরে রেখে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি করে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখান থেকে চলে যায়।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার দাবিতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ তার সহযোগীদের দিয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘অস্ত্রধারীরা মুখোশ পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। তবে সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।