ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্কুলের সঙ্গে পলিটিক্স ‘ইনভলভ’ করব না : হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
মতবিনিময় সভায় কথা বলছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, ‘যারা স্কুল কমিটিতে আসতে চাচ্ছে, তা কেবল ভিজিটিং কার্ডে পদের তালিকা বাড়ানোর জন্য। স্কুলের সভাপতি হবে শুধু কার্ড ছাপানোর জন্য—এটা হবে না। আপনি কার্ড ছাপাতে চান, কোনো আপত্তি নেই, তবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি স্কুলের সভাপতি হবেন, তারপর প্রতি মাসে এসে আমাকে বলবেন যে ক্লাসরুমের টেবিল ভাঙা, ছাদ থেকে পানি পড়ে, ফ্যান চলে না—এভাবে চলবে না। আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন, কাজ করতে হবে। আমি বসে বসে মিষ্টি খাওয়ার লোক চাই না।’

সোমবার (৪ মে) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং মাস্টার ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যারা ঘন ঘন স্কুলে এসে খোঁজখবর নেন, তাদের একটি তালিকা করুন। সেখান থেকে আমি সভাপতি করতে চাই। যারা সত্যি আন্তরিকভাবে স্কুলে সাহায্য করতে চান, তাদেরই দায়িত্বে আনা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নির্বাচনের সময় পেছনে হাঁটেন, তাদের কাজ স্কুলে নয়। তারা রাজনীতি করবে, স্কুলের সঙ্গে রাজনীতি আমি যুক্ত করতে চাই না।’

‘বড় ভাই সিনড্রোম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা স্কুলে এসে ছাত্রদের নিয়ে যায়, পরে তাদের খারাপ পথে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। রাঙ্গুনিয়ায় মাদকের সমস্যা রয়েছে—এটা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।’

স্কুল মাঠ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক স্কুলের বড় মাঠ আছে, কিন্তু পরে দেখা যায় সেখানে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়। রাঙ্গুনিয়ায় অনেক মাঠেই খেলাধুলার চেয়ে অন্য কাজ বেশি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি স্কুল কমিটিতে আসতে চান, কিন্তু এখন অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। কারণ যোগ্যতা না থাকলেও অনেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটা আমি চাই না।’

তিনি জানান, অনেক স্কুলে আইসিটি ল্যাব নেই। রাঙ্গুনিয়ার বেশিরভাগ স্কুলে আইসিটি ল্যাব নেই। আমি চেষ্টা করব প্রতিটি স্কুলে ল্যাব স্থাপন করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুলের অনুদান এক জায়গা থেকে নিয়ে অন্য জায়গায় দেওয়া এক ধরনের দুর্নীতি। স্কুলের ভেতরের দুর্নীতি আমি সহ্য করব না। আশা করি সবাই সহযোগিতা করবেন।’

এর আগে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ ও ঋণের চেক বিতরণ করেন।