ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগে দুই পুলিশসহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’ ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে প্রশাসনে তীব্র নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত জোরদার করেছে জেলা পুলিশ এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পুলিশ সদস্য মোশাররফ, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সজীব এবং অভিযুক্ত এএসআই হারুন (হারুন-২), কনস্টেবল মেহেদী ও এসআই পরিমল।

জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ, অভিযোগের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ, যা এই অভিযোগের গুরুত্বই তুলে ধরে।

ভুক্তভোগী মোশাররফ জানান, পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগে বলা হয়, সীতাকুণ্ড মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করেন।

তিনি একাধিকবার থানার ওসি মাহিনুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে তিনি আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

এদিকে অভিযুক্ত এসআই হারুন (হারুন-২) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোশাররফ আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি শেষ হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ জানান, জেলা জজের নেতৃত্বে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।