দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত রক্ষায় ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি সুরক্ষা পাবে পারকি সৈকত, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা।
বর্তমানে প্রকল্পটি নিয়ে সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে ডিজাইন প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ।
জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্লকের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হলেও রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া থেকে পারকি সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা এখনো অরক্ষিত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় এসব এলাকা ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
পারকি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছর ভাঙতে ভাঙতে আজ পারকি সমুদ্র সৈকতের অস্তিত্ব বিলীনের পথে। জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে গেছে একে একে সৈকতের সব গাছ, বেড়িবাঁধ ভাঙনে তলিয়ে গেছে পারকি সংলগ্ন মৎস্য চাষ। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের সম্পদ এই বিচটি রক্ষা পাবে, সাথে রক্ষা পাবে স্থানীয়রা।
পারকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কাশেম বলেন, পারকি সমুদ্র সৈকত ভাঙনের ফলে পর্যটকের আনাগোনা কমে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে দোকানপাট। ব্যবসায়ীরা হচ্ছে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই পারকি সমুদ্র সৈকতের সুরক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পারকি সমুদ্র সৈকত তার হারানো রূপ ফিরে পাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই ঝুঁকি মোকাবিলা, স্থানীয় কৃষি ও পর্যটনকে চাঙা করতে প্রায় তিন কিমি এলাকাটি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগ। গৃহীত হয় আনোয়ারা পারকি বিচ-সংলগ্ন ২ দশমিক ৭৩ কিমি উপকূলীয় এলাকা সুরক্ষায় ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ শীর্ষক ৫৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প। প্রকল্পের অধীন ৩০ দশমিক ৩৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩ দশমিক ৪৬০ কিমি উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, ২ দশমিক ৭৩০ কিমি তীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশনে একটি দুই ভেন্ট রেগুলেটর স্থাপন, ২ দশমিক ৭৩০ কিমি সড়ক নির্মাণ ও ১ দশমিক ৬০০ কিমি খাল খনন করা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে সাইক্লোন মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় বন্যা ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ়করণ, লবণাক্ত পানির প্রবেশরোধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় সাপমারা খালে মাছ ধরা ট্রলারের নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ তৈরি, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী বৃদ্ধি এবং পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি করবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ‘পারকি বিচ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি নিয়ে যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে এর ডিজাইন প্রস্তুতের কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘মূলত পারকি সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সুরক্ষার জন্যই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে উত্তর পরুয়াপাড়া থেকে পারকি বিচ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা সুরক্ষার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে মানুষের বসতি ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রক্ষা পাবে।’ তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

-20260521165616.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন