সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরে কক্সবাজারের সাগরপাড়ে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টে আয়োজনের সমাপনী দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়ে সাগরপাড় পরিণত হয় স্মৃতি ও শ্রদ্ধার এক নীরব প্রাঙ্গণে। অবিরাম ঢেউয়ের শব্দ, নোনাজলের বাতাস আর সূর্যাস্তের লাল আভায় সাগর যেন হয়ে ওঠে সংগ্রাম ও ইতিহাসের এক জীবন্ত ক্যানভাস।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে সারি সারি আলোকচিত্রে ফুটে ওঠে বেগম জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, কারাবন্দিত্ব, গণআন্দোলন এবং আপসহীন নেতৃত্বের ইতিহাস।
দর্শনার্থীরা বলেন, ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে আবেগ এখানে একসাথে মিশেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বেগম জিয়ার জীবন মানেই সংগ্রাম, আর এই প্রদর্শনী সেই ইতিহাসকে চোখের সামনে এনেছে।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবি সময়ের সাক্ষ্য বহন করছে। বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ জানান, ইতোমধ্যে আটটি বিভাগীয় শহর এবং বেগম জিয়ার জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি জেলায় এই প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। জানুয়ারির শুরুতে রাজধানীর জিয়া উদ্যান ও বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কেও একই ধরনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎসজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, কক্সবাজারে বেগম জিয়ার অনেক স্মৃতি রয়েছে। ইতিহাস ও রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল, নির্বাহী সদস্য অরণ্য পাশা, সাংবাদিক মোরশেদুর রহমান খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাগরের ঢেউ যেমন বারবার আছড়ে পড়ে ফিরে আসে, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার জীবনও ছিল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বারবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার এক অবিস্মরণীয় কাহিনি। কক্সবাজারের সাগরপাড়ে অনুষ্ঠিত এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী সেই সংগ্রামী ইতিহাসকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

