কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নোমানের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম ভাঙিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চকরিয়া পৌর এলাকায় এ ঘটনায় প্রতিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মোহাম্মদ নোমান। তিনি কিছমত আলী পাড়া এলাকার মৃত মৌলভী নুর মোহাম্মদের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে নোমান বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথের দিন ফাঁসিয়াখালীর গাবতলি বাজারে তার মালিকানাধীন ‘ইত্যাদি স্টোর’–এ দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে তালা লাগিয়ে দেন বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম। তিনি ফাঁসিয়াখালীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক বলে দাবি করেন নোমান।
নোমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নুরুল ইসলামের নিকটাত্মীয় হেলাল উদ্দিন হেলালী ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার দোকানে প্রথম দফা হামলা হয়। সে ঘটনায় মামলা করা হলে অভিযুক্তরা কারাগারে যান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নুরুল ইসলামের স্ত্রীর বড় ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাস্টার সিরাজ উদ্দিন আহমেদের মধ্যস্থতায় আপস হয়। এর অংশ হিসেবে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নুরুল ইসলাম ভবিষ্যতে দোকান নিয়ে কোনো ঝামেলা করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দেন বলে দাবি করেন তিনি।
নোমানের অভিযোগ, সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে নুরুল ইসলাম আবারও দোকানটি দখলের পাঁয়তারা করছেন এবং বিভিন্ন সময়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, টেলিভিশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। তাই তিনি মন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু সমাধান চান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, এটি আমার দোকান। আমি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
প্রসঙ্গত, চকরিয়া ও পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে গত মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সালাউদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ। মব কালচারকে আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা হবে না।

