কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অবৈধ বাঁধ কাটার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রভাবশালী দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের রঙিখাল।
শনিবার (২৫ জুলাই) কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ উচ্ছেদ অভিযান।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে কাজির মার্কেট এলাকার একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খালের প্রবাহ ফিরতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন মগনামা ইউনিয়নের অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা।
অভিযানস্থলে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম (৪২)। তিনি বলেন, এই বাঁধের কারণে এতদিন সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যেত, এমনকি কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য শুকনো মাটিও পাওয়া যেত না। খালের প্রবাহ ফেরায় এলাকার জীবনযাত্রা ও জীবিকার পথ আবার উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইউপি প্রশাসন সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টায় মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট ও সাত নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী। আজ যে বাঁধটি অপসারণ করা হয়, সেটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নির্মাণ করে রেখেছিলেন স্থানীয় মৃত আক্তার কামালের ছেলে মানিক চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে খনন করা এই রঙিখাল ছিল শুদ্ধখালী, এবাদুল্লা পাড়া, মৌলভীদিয়া, কালার পাড়া, বেদারবিল পাড়া ও কুদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান জলধারা। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র খালের আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার তৈরি করে সরকারি জমি দখলে রেখেছিল। ফলে বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান প্লাবিত হয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হতো।
অভিযানকালে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে কোনো দখলদারকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রঙিখালকে পুরোপুরি দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না বলে জানান তিনি। এর আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে চেষ্টা করেও এসব বাঁধ অপসারণ করা যায়নি বলে জানান তিনি। তবে বর্তমানে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসন মাঠে নেমেছে, যার মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৩টি সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

