ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাঘ মাসে মাথা গরম করলে চৈত্রে কী হবে : জামায়াত আমির

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৯:২১ এএম
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ 

জায়ামাতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সারা বাংলাদেশে স্রোত তৈরি হয়েছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে, পরিবর্তনের পক্ষে, বস্তাপচা রাজনীতির বিপক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে, জুলুমতন্ত্রের বিপক্ষে, মা-বোনদের বেইজ্জত করার বিপক্ষে আর ইজ্জত দেওয়ার পক্ষে। কিছু মানুষের এ অবস্থা দেখে মাথা গরম হয়ে গেছে। মাঘ মাসে মাথা গরম করলে চৈত্রে কী হবে! যারা নতুন ফ্যাসিবাদী আচরণ করছেন, তাদের দিয়ে বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লাকসাম স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের যুবকরা রায় দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আমরা ইনসাফের সঙ্গে আছি। সংস্কার যারা মনেপ্রাণে চাইবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি। আজ যুবকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পুরোনো ও নতুন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের মায়ের ইজ্জতের ওপর হাত দিচ্ছে। আমরা তাদের অনুরোধ করি, তোমরা তোমাদের মায়েদের সম্মান করতে শেখো। 

তিনি বলেন, যারা নিজের মাকে সম্মান করতে পারে, তারা গোটা জাতি, বিশেষ করে মায়ের জাতিকে সম্মান করতে পারে। যারা নিজের মাকে সম্মান করে না, তারা অন্য মাকে সম্মান জানাতে পারে না। মনে রাখবে, আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি। সুতরাং কোথাও আমাদের মায়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করলে আমরা কাউকে ছেড়ে দিয়ে কথা বলব না।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একটি হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষের ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। তার মানে হলো, ভোটের বুথে ঢুকে প্রথমে শক্ত করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে দুর্নীতিবাজ আর চাঁদাবাজের কবর রচিত হবে। আর ‘হ্যাঁ’ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আর ২ নম্বর ভোট দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে ইনসাফের ভোট।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক ড. ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম ও মাওলানা আব্দুল হালিম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় প্রার্থী ইয়াসির আরাফাত, কুমিল্লা-৯ আসনের নির্বাচনি জনসভা বাস্তবায়ন সমন্বয়ক, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন, দাঁড়িপাল্লার প্রধান নির্বাচন পরিচালক ও লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মু. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী প্রমুখ।