লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, বাংলাদেশ কারো অনুমতিতে চলবে না। দেশের সিদ্ধান্ত নেবে এ দেশের জনগণ। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, ‘যে দলের নেতা দেশে আসবে কি না তা মোদি সাহেবের অনুমতির ওপর নির্ভর করে— এমন রাজনীতি আমরা মানি না। আপনারা কি মোদির গোলাম? না। তাহলে ভাবতে হবে, আপনারা কোন পক্ষে যাবেন— বিদেশি গোলামির পক্ষে, নাকি বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে?’
তিনি বলেন, এটি শুধু রাজনীতির বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। নির্বাচনি জোট প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, ‘আমি জামায়াতে যোগ দিইনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। আমরা দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে এক হয়েছি কিছু মৌলিক কর্মসূচির ভিত্তিতে।’
তিনি জানান, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, টেন্ডারবাজি বন্ধ, দুর্নীতি দমন এবং ঋণখেলাপিদের গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রের টাকা উদ্ধার।
বিএনপির উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের বলছি— লেখাপড়া করো, গুন্ডামি চলবে না। ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বেয়াদবি করা যাবে না। বিএনপিকে ভোট দিলে দেশ যাবে ঋণখেলাপি, সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের হাতে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে জনগণ ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে।
তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে কর্নেল অলি বলেন, তিনি মোদির কথায় চলাফেরা করেন। জনগণ আর বিদেশি প্রভাবের রাজনীতি মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে, ঋণখেলাপিদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং দেশকে রক্ষা করতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।’
কর্নেল অলি আরও বলেন, তিনি ডা. শফিকুর রহমানকে অনুরোধ করবেন— ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এখন জাতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়— আপনারা কি দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন, নাকি ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেবেন?
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং জামায়াত নেতা নুরে আলম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। বাংলাদেশ টিকবে কি না, তা নির্ধারণ হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।’
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোট ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মিয়াবাজার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

