ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে চুলা, রান্না করছেন নার্স

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নাঘর ও বিশ্রামকক্ষ হিসেবে। ছবি : সংগৃহীত

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে প্রসূতি সেবায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনা চলছে। যেখানে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ার কথা, সেখানে দুই বছর ধরে অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নাঘর ও বিশ্রামকক্ষ হিসেবে। গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না, অবাধ যাতায়াত ও শৃঙ্খলাহীনতার কারণে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ছেন প্রসূতি মা ও নবজাতক।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের কয়েকজন নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে গ্যাসের চুলায় পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরা অবাধে চলাফেরা করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছিল সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতদেরও অবাধ চলাফেরা লক্ষ্য করা গেছে। ভিডিওতে দেখা নার্সদের মধ্যে রয়েছেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক প্রসূতির স্বজন অভিযোগ করেছেন, গাইনি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাহিরা খাতুন রোজী, নিলুফা সুলতানা ও তাহমিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মের বিষয়ে অবগত। তবে নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকার কারণে ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন প্রসূতি রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেক সময় রোগীর স্বজন ডাকলেও নার্সরা ক্ষেপে যাচ্ছেন।

আবু জাফর নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, এমন স্পর্শকাতর জায়গায় দিনের পর দিন এই অব্যবস্থাপনা উদ্বেগজনক। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষও দায় এড়িয়ে যেতে পারবে না। হাজারো মা-বোন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

ফরিদা আক্তার নামে আরেক রোগীর মন্তব্য, স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত যাদের, তাদের কাছ থেকেই আমরা অনিরাপদ বোধ করছি। সরকারি প্রতিষ্ঠানেই এ পরিস্থিতি মানতে হচ্ছে।

দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বললে তারা এড়িয়ে গেছেন। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না হাসপাতালের আরএমওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না অসম্ভব। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। আমরা অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, থিয়েটারে রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।