ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে এ বিশেষ তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় গাজীপুর জেলা পুলিশ ও শ্রীপুর থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ চেকপোস্ট চালু থাকতে দেখা যায়। এ সময় মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
পুলিশ সদস্যরা যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেন। পাশাপাশি যাত্রীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সন্দেহজনক চলাচল প্রতিরোধ করতেই পুলিশের এ সতর্ক অবস্থান।
পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র বহন, মাদকদ্রব্য পরিবহন কিংবা বেআইনি কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করতেই এই বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্বাচনকালে যেন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সরাসরি ঘটনাস্থলে দেখা যায়, চেকপোস্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিশেষ চেকপোস্টের নেতৃত্বে রয়েছেন গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই ফারুক, শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন সাদ্দাম, এসআই রাখালসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা। যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ আলাদাভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রীপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় পুলিশের এই নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।’
পুলিশের এ তৎপরতায় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ মানুষও নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।



