ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুবক, উন্নয়ন ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াই; ইশরাকের তিন অগ্রাধিকার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী।

গাজীপুর জেলা পরিষদকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার ইশরাক বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়া।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গাজীপুর জেলা পরিষদে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং প্রতিষ্ঠানটি লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জেলা পরিষদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য ফরেনসিক অডিট শুরু করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে এখানে কী হয়েছে, কোথায় কী অনিয়ম হয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই আমরা সামনে এগোতে চাই।

প্রশাসক ইশরাক জানান, তার পরিকল্পনায় রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কারসহ সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ব্যারিস্টার ইশরাক বলেন, যুবকদের দক্ষতা বাড়াতে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ এবং বিদেশমুখী কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারে।

মাদকবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বেকারত্ব ও হতাশা থেকেই অনেক যুবক মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা হবে।

প্রশাসক আরও জানান, জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করে গাজীপুর জেলা পরিষদকে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে তার।

তিনি দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আমি গাজীপুরবাসীর জন্য কাজ করতে এসেছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জেলা পরিষদকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।’