গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ২০টি গরু চুরি হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে তুমলিয়া ইউনিয়নের টিওরী গ্রামের খানবাড়িতে একটি গোয়ালঘর থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী মো. জামারুল খান জানান, তার গোয়ালঘরে একটি দুধেল গাভী ও দুটি গরু ছিল। শুক্রবার ভোরে তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ঘরের প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকানো। অন্য পাশের দরজা দিয়ে বের হয়ে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, তিনটি গরুই নেই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি তুমলিয়া ইউনিয়নে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে উত্তর সোম এলাকায় দুই বালু ব্যবসায়ীর গদিতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে এসে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, সিসিটিভির ডিভিআর এবং জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে যায়।
অলুয়া, সানাইয়া, মানিকপুর ও টিওরীসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে খামারি ও কৃষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা রাতের পুলিশি টহল জোরদার এবং সক্রিয় চোরচক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, সোম বাজারের এক ব্যবসায়ীর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে নীল রঙের একটি পিকআপ টিওরী এলাকায় প্রবেশ করে এবং রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয়দের ধারণা, ওই পিকআপেই চুরি হওয়া গরু বহন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

