জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার অনুকূল জলবায়ু, উর্বর মাটি এবং কৃষকদের পরিশ্রমী মনোভাবের কারণে সরিষা চাষে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে বকশিগঞ্জে সরিষার ভালো ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একদিকে কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সরিষা বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এবার বকশিগঞ্জে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ৭৯১৫ হেক্টর জমিতে ধরা হলেও বাস্তবে ৫৫৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষকদের মাঝে ৫০০০ জনকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বকশিগঞ্জে সরিষা ক্ষেতগুলোতে ফুল ঝরে ফলন আসা শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং অনুকূল আবহাওয়া সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
উপজেলার সাধুরপাড়া গ্রামের কৃষক আক্তার গাজী এই মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। গত বছর তিনি চার বিঘা জমি থেকে ১৭ মণ সরিষা সংগ্রহ করেছিলেন।
আক্তার গাজী বলেন, সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি এবং অন্যান্য রবি শস্যের তুলনায় কম উৎপাদন ব্যয়, এসব কারণে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো এলাকায় সরিষা চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া গ্রামের কৃষক বিল্লাল মিয়া জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে প্রতি বিঘায় ছয় মণ ফলন পান। এ মৌসুমে তিনি তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।
বকশিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গবেষকরা কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। কৃষি সেবার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও তদারকি করা হচ্ছে।
এই মৌসুমে ভুট্টা চাষ বেশি হওয়ায় সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হয়েছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি।


