ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমসে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ৪ সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থগিত

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

স্থগিত লাইসেন্সগুলো হচ্ছে- মেসার্স লিংক ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ অনিয়মকারী নানা সখ্যতার কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় এ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। তবে এসব পণ্যের মাধ্যমে যাতে কোনো মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে দেশে মাদক, অস্ত্র বা অবৈধ পণ্য প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এটি কাস্টমসের তদারকিতে দেশি-বিদেশি দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস।

মেশিনটি যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে রহস্যজনক বিষয় হলো, স্ক্যানিং কার্যক্রমের পরেও ট্রাকে অবৈধ পণ্য, মাদক ও অস্ত্র প্রবেশ করছে। গত তিন মাসে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৫টি মিথ্যা ঘোষণার চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা ধরা পড়ে। তবে দুই-একটি চালান আটক হলেও অধিকাংশ অবৈধ পণ্য গোপন সখ্যতার মাধ্যমে পাচার হয়ে গেছে। এসব অনিয়ম বেশি দেখা যাচ্ছে গার্মেন্টস, কেমিক্যাল ও কাঁচামাল জাতীয় পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ রুবেল বলেন, ‘গত কয়েক মাসে আমদানি পণ্যে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য প্রবেশের সময় ১৪টি চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ গত রোববার (৫ এপ্রিল) বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের নির্দেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘সিনথেটিক ফেব্রিক্স’ ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বড় চালান জব্দ করা হয়। কাগজে ২৬০ প্যাকেট থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ২৬৮ প্যাকেট। পণ্যের বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকা। এর আগে গত ১৪ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ ঘোষণায় পাটবীজ এবং ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে অতিরিক্ত তিন টন পণ্য ধরা পড়ে। সর্বমোট প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়েছে।’

এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও অবাধে ঢুকছে মাদক, আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার বিভিন্ন পণ্য। এতে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিরাপদ বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস সচেতন রয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’