‘বুকভরা দীর্ঘশ্বাসের গল্প, দুই প্রতিবন্ধীকে নিয়ে ১৬ বছর জীবনযুদ্ধে তাসলিমার পরিবার’ শিরোনামে গত ১৩ জুলাই দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক বিষয়টি শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আসে। তিনি আর দেরি করেননি। তাৎক্ষণিক তিনি এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
জন্মের পর থেকেই যমজ দুই ভাইয়ের কেটে গেছে দীর্ঘ ১৬টি বছর। পা রেখেছে ১৭-তে। কিন্তু অর্থাভাব আর চরম অসহায়ত্বের কারণে আজ পর্যন্ত এক পা-ও নিজে নিজে চলতে পারেনি তারা। অর্থাভাবে মেলেনি একটা হুইলচেয়ারও।
যশোরের শার্শার কায়বা ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর শরিফুজ্জামান মিলন ও তাসলিমা আক্তার দম্পতির যমজ দুই ছেলে সাজেদুল ইসলাম মাহি ও সাকিবুল ইসলাম রাফির এই অসহায় পরিবারের মানবেতর জীবন সংগ্রাম ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের কষ্টের কথা নিয়ে ‘দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর তা নজরে আসে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে ওয়াহিদের। সংবাদ প্রকাশের পর তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
মঙ্গলবার বিকেলে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে ওয়াহিদের মানবিক উদ্যোগে মাহি ও রাফির জন্য উপহার হিসেবে দুটি হুইলচেয়ার পৌঁছে দেওয়া হয়। ইউএনওর পক্ষে হুইলচেয়ার দুটি পরিবারের হাতে তুলে দেন কায়বা ইউনিয়নের প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাজমুল হাসান।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর সন্তানদের চলাচলের জন্য একটি সহায়ক বাহন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। অসহায় এই দুই প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পক্ষে হুইলচেয়ার দুটি গ্রহণ করেন তাদের দাদি মমতাজ বেগম ও ফুফু নারগিস পারভীন। হুইলচেয়ার দুটি হাতে পেয়ে তারা উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পরিবারটির দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অন্তত দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা হলেও, এই যমজ দুই ভাইয়ের উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা এবং মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ বসতঘরের জন্য এখনো বিত্তবান ও সমাজসেবী সংগঠনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কায়বা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।
উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের অনলাইনে ‘বুকভরা দীর্ঘশ্বাসের গল্প, দুই প্রতিবন্ধীকে নিয়ে ১৬ বছর জীবনযুদ্ধে তাসলিমার পরিবার” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

