যশোর-চৌগাছা সড়কের সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি থেকে আমবটতলা পর্যন্ত ছিনতাইকারী আতঙ্ক বিরাজ করছে। নারীদের টার্গেট করে ছিনতাইকারী চক্র রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, চুড়ামনকাটি-আমবটতলা সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা সুলতানা জানান, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি চুড়ামনকাটি বাজার থেকে ভ্যানে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে এক বান্ধবী ছিলেন। পথিমধ্যে আমবটতলা বাজারের অদূরে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারী ছোঁ মেরে তার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ফারিহা সুলতানা আরও জানান, ব্যাগ টেনে নেওয়ার সময় তিনি ভ্যান থেকে সড়কের ওপর পড়ে আহত হন। ক্যাম্পাসের এত কাছাকাছি ছিনতাইয়ের ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় চুড়ামনকাটি বাজার থেকে ভ্যানে চড়ে আমবটতলা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন সাজিয়ালী গ্রামের গৃহবধূ সুমনা রানী। পথে দোগাছিয়া সালামিতের বিলের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারী ছোঁ মেরে সুমনা রানীর ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগী সুমনা রানী জানান, ব্যাগে দুটি নতুন মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিল। কয়েকদিন আগে মোবাইল দুটি তার এক আত্মীয় বিদেশ থেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীরা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাগ কেড়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। তাদের কর্মকাণ্ডে নারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নির্বিঘ্নে পথ চলাচলে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, মাদকসেবনকারীরা উড়ন্ত ছিনতাইয়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা ছিনতাই করছে। তাদের কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নারীদের টার্গেট করছে।
চুড়ামনকাটির সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ জানান, দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। ছিনতাই প্রতিরোধে চুড়ামনকাটি-আমবটতলা সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


