ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত শৈলকুপার জাহাঙ্গীর যশোরে উদ্ধার

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাতগাছী গ্রামের মরহুম লুৎফর রহমানের পুত্র, যশোরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম শাহীন (৪৫)কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬, যশোর। নিখোঁজের নয় দিন পর বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামের একটি নির্জন ইটভাটার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টার পর্যন্ত অভিযান চলেছে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে যশোর র‌্যাব ক্যাম্পে আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২ মার্চ রাতে। ওই সময় ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেদিন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় অবস্থিত জাহাঙ্গীর আলম শাহীন-এর ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত প্রায় ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মা ও স্ত্রীর কাছে কল করে। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে বলা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানাতে নিষেধ করা হয়।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ফলাফল না পাওয়ায় ৪ মার্চ বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:“আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। তার সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। আমি আমার স্বামীর নিরাপদ ফিরে আসার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করি।”

সংবাদ সম্মেলনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তৎপর হয়ে ওঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬-এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার খলশি গ্রামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তাকে র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার সুস্থভাবে ফিরে আসার খবরে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বইছে।

র‌্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।