ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শৈলকুপায় সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, যুবকের কান বিচ্ছিন্ন

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক দুই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার উমেদপুর ও দিগনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় আব্বাস মণ্ডল, অংকন, রবিউল হোসেন, তাসিম শেখ, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব মোল্যা, সাকিব হোসেন, লিয়াকত আলী, আকিজ মোল্যা, আনিচ মোল্যা, সানজু, আব্দুল কাদের, মোশারফ হোসেন, খায়রুল ইসলাম ও সাহিদুর ইসলামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান দাবি করেন, কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা প্রথমে তার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। অন্যদিকে ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে মতিয়ার রহমানের সমর্থকরাই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে একই দিনে উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের শিংনগর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আরও একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আলামিন ও হাসানুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গুরুতর আহত আলামিনের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ বলেন, উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর উভয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।