বিষধর সাপের কামড়ের পর হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভরতা— শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল পাঁচ বছরের এক শিশুর। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের মদনডাঙ্গা গ্রামে।
নিহত রহিত (৫) কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার রেলস্টেশন এলাকার সজল বেদের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মদনডাঙ্গা বাজার এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকানের পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল রহিত। এ সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় কানাপুকুরিয়া গ্রামের ওঝা শিমুল ও ওমরের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক করা হয়।
একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শৈলকুপায় সাপের কামড়ের পর এখনো অনেক মানুষ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পরিবর্তে ওঝার ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করেন। ফলে প্রায়ই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তারা এসব অসাধু ও প্রতারক ওঝাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সাপের কামড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

