ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

মাদ্রাসায় তালা ঝুলালেন বিএনপি কর্মী, খুলে দিলেন নেতা

বিল্লাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:১৪ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির বাগডাঙ্গা বাদামতলার বিএনডি শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও মুন্সী আন্তার উদ্দিন এতিমখানায় বিএনপি কর্মী উজ্জল হোসেনের তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি ওই কর্মীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে দেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন, শনিবার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অনুপস্থিত অভিভাবকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল। বারবার খবর দেওয়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী উর্মি খাতুনের বাবা, ছোট দোগাছিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী উজ্জল হোসেন শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি মুঠোফোনে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গালিগালাজ করেন। এমনকি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উজ্জল হোসেন শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় উজ্জলের সঙ্গে ছিলেন শাহাজান, ইমান আলী, হাকিম ও নেজো। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে ওই দিন বিকেলে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি উজ্জলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে দেন। তালা ঝুলানোর ঘটনায় জড়িত উজ্জলসহ অন্যরা এলাকায় মনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকার শান্তি বজায় রাখতে শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসায় যান যশোর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদ, সিনিয়র সহসভাপতি আবু তালেব, রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ইব্রাহীম ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিমুল হোসেন। এ সময় তারা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তালা ঝুলানোর সঙ্গে জড়িতরা দুঃখ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনকে অবহিত করেছিলেন। উজ্জল হঠাৎ করে কেন তার সঙ্গে এমন আচরণ করলেন, তা তার বোধগম্য নয়।

মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষককে গালিগালাজ করার ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে উজ্জলসহ অন্যদের ডাকা হলেও তারা আসেননি। ফলে ঘটনাটি এতদূর পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তারা ঘটনাটির মীমাংসা করে দিয়েছেন।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে তারা সেখানে যান। মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।