ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:২৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাতের নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেলা হয়। নখের ভেতরে সুই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে কালো কাপড় বেঁধে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি সাজানো মামলায় আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজের কারাভোগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী। তার মতো আরও কয়েকজন নেতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কারাগারে কাটানো দিন এবং নির্যাতনের স্মৃতি তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের অবদান ভবিষ্যতেও দলের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনের সময় তাকে গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন বন্ধের শর্তে তার পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। পরে ধারদেনা করে প্রায় দেড় কোটি টাকা দিতে বাধ্য হন।

গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, যুবদলের রাজনীতি করার কারণে তার বিরুদ্ধে ৫১টি মামলা হয়। বিভিন্ন সময়ে তিনি মোট ১৮৬ দিন কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, তার কন্যাসন্তানের জন্মের খবর তিনি কারাগারে বসেই পান। এমনকি প্রথমবার সন্তানের মুখও দেখেন কারাগারের ভেতরে। গ্রেপ্তারের পর তাকে টর্চার সেলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন।

শ্রীপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন আকন্দ বলেন, ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের পানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ছাত্রদলের পদে থাকাই ছিল তার একমাত্র ‘অপরাধ’।

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার চোখ ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে প্রায় পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মো. শাজাহান ফকির, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ডা. শফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেহ উদ্দিন মৃধা, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বেপারী, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু জাফর সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আহসান কবির, আহ্বায়ক সদস্য আবুল হোসেন প্রধান, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাজাহান মোড়ল, সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ বন্দুকশী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য শাজাহান সজল, শ্রীপুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রাজিবুল বেপারী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন আকন্দ, সদস্যসচিব আজিজুল হক রাজন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম।

এ ছাড়া শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের সদস্যসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।