পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিপন্ন বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ দক্ষিণাঞ্চলের বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের মূল হোতা সুমন আকন (৪৫)কে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়ার মুসলিমপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার করা তক্ষকটি বন বিভাগের সহায়তায় একই দিন বিকেল ৩টার দিকে বনে অবমুক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার সুমন আকন ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকার বারেক আকনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যপ্রাণী ও তক্ষক চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়িতে তক্ষক কেনাবেচার গোপন খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার দুপুরে তার বসতবাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানকালে তার ঘর থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করা হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রাখায় তাকে আটক করা হয়। এ অভিযানে অংশ নেন ভাণ্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন হোসেন, কামরুজ্জামান ও রফিক।
তক্ষকটি উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণীটির সুরক্ষায় সেটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তক্ষকটিকে সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে (বনে) অবমুক্ত করেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান ঘটনার সত্যতা আজ রাতে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে আটক সুমনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, এটি সুমনের প্রথম অপরাধ নয়। এর আগেও ২০২৩ সালের ২৫ জুন রাতে সুমনসহ আরও চারজনকে বিপুল পরিমাণ অর্থমূল্যের তক্ষকসহ আটক করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী করে চোরাচালান চক্রের হাল ধরেন।


