বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এবার জনগণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশের শাসক ও দুর্নীতিবাজদের ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে, কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা আর জনগণকে প্রলোভনে ফেলতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বটিয়াঘাটা বাজারে জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, মানুষ লাঙ্গল, নৌকা ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশ বদলাতে চায়।
তিনি বলেন, জনগণ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও দমন-পীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তারা দেখিয়েছে অপপ্রচার আর আর কার্যকর হবে না। তরুণদের এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে।
তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইসলামি চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা একত্র করে একটি মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল ও মানুষ হত্যার কার্যক্রম থেমে যায়নি। যারা বাজার, ঘাট ও হাটে চাঁদাবাজি করেছে, জনগণ তা জানে।
সংখ্যালঘু ইস্যুতে তিনি বলেন, হিন্দুদের ভয় দেখানো হচ্ছে—দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে শাঁখা-সিঁদুর থাকবে না, বোরকা পরতে হবে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হিন্দু হলেও কৃষ্ণনন্দী এমপি হলে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এ সময় তিনি খুলনা-১ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভোট চাইতে গিয়ে আমাদের মায়েদের বোরকা টেনে খুলে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি পেটে লাথি মারা হচ্ছে। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়ের কাপড় খুলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে পুরো জাতিকেই বিবস্ত্র করতে চাইবে।’
জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মাইনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাউসুল আযম হাদি।
এর আগে দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে তিনি খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্ধ মিল পুনরায় চালু করা, সড়ক সংস্কারসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখনো সময় আছে, নির্বাচন কমিশন চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সংশয় থেকে যাবে।’



