ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

‘বি কোম্পানি’র পাঁচ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পাঁচ চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) কেএমপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১ তারিখ থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু হয়, যা ২০ তারিখ পর্যন্ত চলমান ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে খুলনা মহানগর ডিবির একাধিক দল শনিবার রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. আবরার ফয়সাল ওরফে বাদিন (২৪), মো. আল-আমিন (২৯), মো. তুষার শিকদার (৩৮), মো. আসিফ (২৫) এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বিরকে (১৮)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা খুলনার চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা পলাতক থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের দেখানো ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে খুলনা মহানগরীতে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কেএমপি জানিয়েছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।