ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীতে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস, সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রবেশপত্রের ছবি জালিয়াতি করে কর অঞ্চল নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চাকরিতে যোগদান করতে আসা দুজনকে দেখে সন্দেহ হয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের। পরে কাগজপত্র যাচাই করে ‘প্রক্সি পরীক্ষার’ প্রমাণ মেলায় তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। নোয়াখালীর মাইজদী বাজার কর অঞ্চলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (২১ জুন) রাতে নোয়াখালীর মাইজদী বাজার কর অঞ্চলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন- কর অঞ্চল-নোয়াখালীর সদ্য নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা দুজনেই লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগদান করতে এসেছিলেন।

আটককৃতরা সদর উপজেলার ব্রহ্মপুর ও হাতিয়ার গুল্যাখালীর বাসিন্দা। আটক নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের মামা আয়কর বিভাগেই চাকরিরত বলে জানা যায়।

কর বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১১ জুন কর অঞ্চল নোয়াখালীর অধীনে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা শেষে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদপত্রসহ রোববার (২১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে কর অঞ্চল নোয়াখালীতে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা যোগদান করতে এলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থীকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। সন্দেহের একপর্যায়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের পরীক্ষা অন্য প্রার্থী প্রক্সি দিয়েছে বলে তারা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডিকে খবরটি জানানো হলে তারা কর অফিসে গিয়ে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হন। বর্তমানে আটক দুজন সুধারাম মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে আছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ঢাকার একটি জালিয়াতি চক্রের সাথে তাদের ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়। চক্রটি সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে থাকে। চাকরির আবেদন করার সময়ই তারা তাদের চুক্তিকৃত পরীক্ষার্থীর ছবি পরিবর্তন করে আবেদন করে যাতে পরীক্ষার সময় বোঝা না যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর দুজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তিনি  বলেন, ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এই চক্রে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’