টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় জানায়, জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বেড়েছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.০১ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ২ সেন্টিমিটার বেশি।
চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৬৩ মিটার, যা ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৩০ মিটার, যা ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি ১.৮৭ মিটার, যা ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
তবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমতে পারে।


