খেলাধুলা, স্কুল আর স্বপ্নে ভরা শৈশবের দিনগুলো এখন অসুস্থতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুভয়ের সঙ্গে কাটছে ১০ বছরের শিশু শারমিনের। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের রাধাবল্লভ ব্যাপারীর হাট এলাকার এই শিশুটি মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
শারমিন রাধাবল্লভ কালিরপাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা শাহ আলম ও মা আমেনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে সে দ্বিতীয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শাহ আলম একজন ক্ষুদ্র কলা ব্যবসায়ী। তার সামান্য আয়েই কোনো রকমে চলত সংসার। কিন্তু মেয়ের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর সেই সংসারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে শারমিনকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের সঞ্চয় ও সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় থেরাপি নিশ্চিত করা গেলে শারমিনকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে তার চিকিৎসা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শারমিনের বাবা শাহ আলম বলেন, মেয়েকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুরে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা আবার ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে আর নিয়ে যেতে পারিনি। এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসার জন্য যা জমিজমা ছিল, সব বিক্রি করেছি। এখন বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই।
মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যাবে।
প্রতিবেশী যুবক তুহিন আলম মুকুল বলেন, শারমিনের পরিবার তাদের চোখের সামনে কলিজার টুকরো মেয়েটিকে নিঃশেষ হয়ে যেতে দেখছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। আমরা যদি সবাই মিলে সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে হয়তো শারমিনকে নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিবেশীরাও সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের শারমিনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, সবার সামান্য সহযোগিতা একত্রিত হলে হয়তো আবারও হাসতে পারবে ছোট্ট শারমিন। ফিরে পাবে তার স্বপ্নভরা শৈশব, স্কুলের বেঞ্চ আর বন্ধুদের সঙ্গ।
শারমিনের পিতা-মাতা ও এলাকাবাসী তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দেশের দায়িত্বশীল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
বিকাশ (পার্সোনাল): 01761004168
নগদ (পার্সোনাল): 01328718686
ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: 7017341976827

