কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে রাতে ফেরত নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়।
পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) আওতাধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। তবে পতাকা বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে ছিলেন তা জানায়নি বিজিবি।
দক্ষিণ অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুরে ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩ এর সাব পিলার ৩ এস এর কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এক কন্যাশিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক। পরে শেষ বিকেলের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, তার শিশুকন্যা মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকাল ১০টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবারের বায়না ধরে। কিন্তু তিনি খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। দুপুর ১২টার দিকে স্কুলে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে স্কুলে নাই। তিনি এদিক ওদিক মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে সীমান্তে গেছে এবং বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে।
শিশুটি বাংলাদেশি এমন তথ্য জানার পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩ এর সাব পিলার ৩ এস এর গা ঘেঁষে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে অংশ নেন। পনেরো মিনিটের মতো বৈঠকের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে ফেরত নেয় বিজিবি।
পরে শিশুটিকে কাশিপুর বিওপিতে আনা হয়। এ সময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিশুটি তার মায়ের বকা খেয়ে অভিমানে না বুঝে ভারতের অভ্যন্তরে চলে গেলে বিএসএফ তাকে আটক করে। পরে আমাদের বিজিবি বিষয়টি জানতে পেরে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করলে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে আমিও উপস্থিত ছিলাম। বৈঠকের পর বাচ্চাটিকে আমরা ফেরত এনেছি। বিএসএফ বাচ্চাটিকে আটক করলেও তার কোনো ক্ষতি করেনি। তাকে আদর যত্নে রেখেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার বাবা-মার কোলে তুলে দেয়।

