কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসার পেঁয়াজ হাটে যেন হতাশার দীর্ঘশ্বাস। উৎপাদন বেশি হলেও দাম কম থাকায় লোকসানের বোঝা বইছেন কৃষকরা।
মিরপুর উপজেলার হালসা পেঁয়াজ হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকায়। অথচ কৃষকদের দাবি, এই দামে খরচের অর্ধেকও উঠছে না। মণপ্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা হলে খরচ কিছুটা হলেও ওঠানো যেত। ফলে এখন কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, এ বছর কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৫৭২ হ্যাক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯২৩৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়েছে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে ১১২ হ্যাক্টর জমিতে।
হালসা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল সুবাহান জানান, সার, বীজ ও সেচ সবকিছুর দাম বেশি। কিন্তু ফসলের দাম নেই। ঋণ করে চাষ করেছি, এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকার যদি দামটা নিয়ন্ত্রণ করত তাহলে আমরা বাঁচতাম।
পেঁয়াজ চাষিদের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান হচ্ছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত উৎপাদকরা। ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের ইশালমারী গ্রামের কৃষক লিটন রহমান জানান, এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিজ ও কীটনাশকের দাম বেশি, আবার শ্রমিকের মজুরি প্রতিদিন ৫০০ টাকা দিতে হয়। কিন্তু পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় লোকসান ছাড়া কিছুই নেই।


