ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ঢাবি শিক্ষার্থীসহ মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের আরও এক বোন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন: মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭) আহত হয়েছেন।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে। গণপিটুনিতে আহত হয়ে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৭ সদস্য আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহিনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহিনুর ওই বাসায় থাকতেন। সকালে এক অজ্ঞাত যুবক শাহিনুর ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেন। এতে শাহিনুর ও দুই মেয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই যুবককে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তাদের এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকেও চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশের ৭ সদস্য আহত হন।