ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ওসি’র অপসারণ দাবি বিএনপির

​লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

​লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের জেরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের অপসারণ দাবি করেছে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

​জানা গেছে, গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত ২৪ নম্বর আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত ​আজিজার রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম আপন ভায়রা ভাই। অভিযোগ রয়েছে, আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তারের পরপরই ওসিকে ফোন করে কৈফিয়ত চান বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম। আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি জানালে তিনি ওসির ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর থেকেই ওসি ও ওই বিএনপি গ্রুপের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

​গত বুধবার (১০ জুন) নাশকতার মামলায় রমজান আলী নামে অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম নেতৃত্বাধীন গ্রুপ দাবি করে, রমজান আলী মৎস্যজীবী দলের গোড়ল ইউনিয়ন শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদেই মূলত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয় বিএনপির ওই অংশ।

​সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওসি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের করছেন এবং উপজেলাকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তিনি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি করেন, দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সিনিয়র নেতাদের না জানিয়েই তাৎক্ষণিক এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

​এদিকে মৎস্যজীবী দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী জাদু বলেন, ‘রমজান আলী নামে আমরা কাউকে চিনি না। গোড়ল ইউনিয়নে আমাদের কোনো কমিটিই নেই, তাই সেখানে পদের দাবি করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

​বিএনপির অভ্যন্তরে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন ওসি—এমন আলোচনা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা জানান, “মূলত নিজের ভায়রা ভাই আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ক্ষিপ্ত হয়েই বিএনপি’র একটি অংশ আন্দোলনের নাটক সাজিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানের প্রসঙ্গ আড়াল করতে রমজান আলীকে মৎস্যজীবী দলের নেতা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।”

​এ বিষয়ে  উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তারের দিন ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছ থেকে এড়িয়ে যান।

​কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আমার কাছে ফোনে কেন কৈফিয়ত চেয়েছিলেন তা আপনারাই ভালো বুঝছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা আমাদের দায়িত্ব। অপরাধী কার আত্মীয়, তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”