ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ধীরগতির সেতু নির্মাণে মাদারীপুরে দুর্ভোগ চরমে

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মাদারীপুরে কুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতু স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সদর উপজেলার চরমুগরিয়া ও নয়াচর এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে ঐতিহাসিক চরমুগরিয়া বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। এতে সাধারণ মানুষের যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। ব্যবসায়ীরা জানান, মালামাল আনা-নেওয়ার খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া-নয়াচর এলাকায় কুমার নদের ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট। ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৫ টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হতাশাজনক। অভিযোগ রয়েছে, দিনের পর দিন কাজ বন্ধ থাকে এবং নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত শ্রমিক দেখা যায় না।

কুমারটেক এলাকার বাসিন্দা মাসুদ সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা ব্রিজের কাজ তিন বছর ধরে চলছে, কিন্তু তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। দুই-চার জন মিস্ত্রি দিয়ে কাজ চালানো হয়। এভাবে চললে কবে কাজ শেষ হবে, কেউ জানে না।’

নয়াচর এলাকার ভুক্তভোগী সুমন বলেন, ‘সেতু না থাকায় প্রতিদিন নৌকায় পার হতে হয়। এতে আমাদের সময় ও টাকা—দুটোই নষ্ট হচ্ছে।’

অন্যদিকে চরমুগরিয়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী জুনের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।