মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা তার ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারী গুড়’-এর জন্য বিখ্যাত। এ উপজেলাতেই রস ছাড়া তৈরি হচ্ছিল খেজুর গুড়। এমন খবরে ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে নকল গুড় তৈরির চুলা, সরঞ্জাম, চিটাগুড় ও প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করে। এ সময় হাজার টাকা জরিমানসহ উৎপাদনকারীকে সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মজমপাড়া এলাকায় কোকিল উদ্দিনের বাড়িতে এই অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার।
অভিযান পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
স্থানীয়রা জানান, কোকিল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই চিটাগুড় ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করে তা নিয়মিত বাজারে সরবরাহ করছিলেন। খেজুর গুড়ের নামে যা বিক্রি হচ্ছিল, তা রস ছাড়া ভেজাল গুড়।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, কোকিল উদ্দিন ও তার স্ত্রী রস ছাড়াই গুড় তৈরি করছিলেন। রস না থাকলেও ভোক্তাদের ঠকাতে কোকিল প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি করে গুড় তৈরি করতেন। তাকে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা তার ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারী গুড়’-এর জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে ঝিটকা ও এর আশপাশের গ্রামগুলো এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি গুড়ের জন্য সুপরিচিত, যা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এবং এর স্বাদ, গন্ধ ও বিশুদ্ধতার জন্য এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত খ্যাতি লাভ করেছিল। এই গুড় খেজুরের রস থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয় এবং এর উদ্ভাবক মোহাম্মদ হাজারীর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে, যা মানিকগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য বহন করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতেও অনেকটা ভেজাল রয়েছে।
গুড়টি অন্য গুড়ের চেয়ে ভিন্ন, কারণ এটি সাধারণত সাদা এবং অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত হয়, যা এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে।
তবে সরেজমিন গাছ থেকে রস নামিয়ে গুড় বানিয়ে নিলে ভেজাল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই গুড় প্রতি কেজিতে বিক্রি হয় এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।
প্রকৃত হাজারী গুড়ের উৎপাদন কমে গেলেও ঝিটকা এলাকার কিছু গাছি পরিবার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা তাদের গুড়ের প্যাকেজিংয়ে বিশেষ ট্রেডমার্ক ব্যবহার করছেন।


