ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আগের দিন প্রাণনাশের হুমকি, পরদিনই গুলিতে নিহত ম্যানেজার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
শিবালয় থানা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বালুমহালকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের হুমকি ও পরদিনই গুলিতে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় হুমকির অভিযোগ দিয়ে। ভুক্তভোগী মো. কাওছার আলম খান (৩৬), যিনি দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে তেওতা বালুমহালে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি এ বিষয়ে শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে একটি অজ্ঞাত বিদেশি নম্বর (+৯৬৬৫৫৬৭৩০৭৫৬) থেকে তার মোবাইলে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় তেওতা চর থেকে বাল্কহেড জাহাজে বালি বিক্রি অব্যাহত রাখলে তাকে খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি ২ এপ্রিল শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ৮৮ এবং ট্র্যাকিং নম্বর XBFM35।

ভুক্তভোগী কাওছার আলম খান বলেন, ‘অজ্ঞাত নম্বর থেকে এমন হুমকি পাওয়ার পর আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিষয়টি থানায় নথিভুক্ত করেছি।’

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমকির ঘটনার পরদিনই তেওতা বালুমহালের ইজারাদার সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য ও ম্যানেজার মিরাজকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। নিহত মিরাজের বাড়ি পাবনা জেলার দাপুনিয়া গ্রামে।

হুমকি ও হত্যার এই ধারাবাহিক ঘটনায় তেওতা বালুমহাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।