মৌলভীবাজার জেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত কয়েক দিনে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার (কাল) থেকে জেলাজুড়ে বিশেষ জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত জেলায় ৭৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ২০ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত ডোজ ঢাকায় থেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের আশপাশের প্রায় ১২০টি বাড়িতে বিশেষ ‘সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
একই সঙ্গে শিশুদের বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে, যা হামের জটিলতা যেমন নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৯ জন, বড়লেখায় ১০ জন, কুলাউড়া ও রাজনগরে ১০ জন করে, জুড়ীতে ৬ জন, সদরে ৭ জন, কমলগঞ্জে ৬ জন, শ্রীমঙ্গলে ৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আরও ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রথমে জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়। পরবর্তীতে শরীরে লালচে র্যাশ এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।
নিয়মিত টিকা গ্রহণ করা হলেও বর্তমানে ৩ থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


