মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় দোকান কর্মচারী আব্দুল আজিজ হত্যা মামলার মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খসরুজ্জামান খছরু। সঞ্চালনা করেন রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নিহত আব্দুল আজিজের ফুফাতো ভাই ব্যবসায়ী মো. মাহতাব উদ্দিন।
এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নেছার আহমদ, ইমামুল হক এনাম শাহ, যুবদল নেতা তোফায়েল আহমদ, নিয়াজুল হক, ইউপি সদস্য নূর মিয়া ও রাগিব আলী রাগিব, নিহতের ভাই হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই ও হাফিজ আব্দুল্লাহ, মৎস্যজীবী দলের নেতা দিলওয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।
কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং শেষে নিহতের বড় ভাই মাওলানা আব্দুল হাই দোয়া পরিচালনা করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আব্দুল আজিজকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার জন্য জমানো ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে শেরপুর বাজারের শুটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার পর তার লাশ বস্তাবন্দি করে বাথরুমে রাখা হয়, যাতে পরে সুযোগ বুঝে গুম করা যায়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দেখিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিশ্বনাথসহ সিলেটজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় শুটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের বাড়ির বাথরুম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দোকান কর্মচারী আব্দুল আজিজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আব্দুল আজিজ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পরিবারের দাবি, তিনি সম্প্রতি রাশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হন।

