ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মুন্সিগঞ্জে আগাম আলু উত্তোলন, দাম না পেয়ে হতাশ চাষি

গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় আগাম আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশায় এ বছর অনেক কৃষক আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন। তবে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।

স্থানীয় কৃষক নুরুল আমিন মোল্লা জানান, তিনি ২০ জানুয়ারি থেকে আগাম আলু উত্তোলন শুরু করেছেন। কিন্তু বাজারে আলুর দাম খুবই কম। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু মাত্র ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

আরেক কৃষক দ্বীন ইসলাম বলেন, গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে লাভের আশায় তিনি আলু রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে আলুর চাহিদা নেই। পাইকাররা প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে কেনার প্রস্তাব দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি খুচরা বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, এ বছর আলুর উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরকারি আলুর বীজ না পাওয়ায় চাষাবাদে বাড়তি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বলেন, সঠিক সময়ে বিদেশে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া সম্ভব হতো। সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবে গত মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকরা।

বিদেশফেরত ব্যবসায়ী মোহন মিয়াজী জানান, গত বছর লাভের আশায় তিনি বিদেশ থেকে অর্জিত কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকার আলু কিনেছিলেন। কিন্তু পরে সেই আলু বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে হিমাগার কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে দিয়ে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগারে ৩০০ টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে বাজারে প্রতি বস্তা আলুর দাম নেমে আসে মাত্র ৩০ টাকায়। তবুও কোনো পাইকারি ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দ্রুত রপ্তানি কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলতি মৌসুমেও আলু চাষে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

এভাবেই দেশের আলুর যোগানের একটি বড় অংশ আসে মুন্সিগঞ্জ থেকে। আলুর জন্য বিখ্যাত এই জেলা মুন্সিগঞ্জে একটি আলু গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।