মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা একটি চক্রের মূলহোতা মো. রাজিব সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চক্রটির আরেক সদস্য তিতাস এখনো পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজিব সিকদার (৩৪) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত রুহুল আমিন সিকদার বাবুলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রাজিব, তিতাসসহ চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যান। পরে অন্যরা আত্মগোপনে থাকলেও রাজিব এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গজারিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মাদারীপুরের রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১) এবং গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) ও ইয়াসিন আরাফাত (২১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটির কাছে মোট ১০টি ঘোড়া ছিল। এর মধ্যে ৯টি জবাই করা হয় এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী বলেন, রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে চক্রটি পরিচালিত হতো। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক তিতাসকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ৮ এপ্রিল ভোরে আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা ১২টি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

