ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এক মসজিদেই ইতিকাফে বসেছেন প্রায় ৯০০ মুসল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মযমনসিংহ
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন প্রায় ৯০০ মুসল্লি। নগরীর বাড়েরা মাদানী নগরে অবস্থিত এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার পর খতিব মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.)-এর মাধ্যমে এই খানকা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও রমজানকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক আমলের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রমজানের প্রায় দশ দিন আগে ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়।

২০২৬ সালে রমজানের দশ দিন আগে প্রায় ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন, পরে পহেলা রমজান থেকে সংখ্যা বেড়ে ২২৫ জনে, এবং রমজানের শেষ দশকে এই সংখ্যা ৮৫০ জনের বেশি মুসল্লি হয়ে দাঁড়ায়।

খানকায় দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গ, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন। তাদের আমল ও ইবাদতে পুরো খানকা এলাকা আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত।

খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া শুধু আধ্যাত্মিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশ-বিদেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও পরিচালনা করে। ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা, এবং দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোগ।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় প্রায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়, এবং ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লার বন্যায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০-এর বেশি নও-মুসলিম দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয় এবং ২০০-এর বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

খতিব মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, ইতিকাফে বসা মুসুল্লিদের খানকা ও এলাবাসীর সহায়তায় নিয়মিত খাবার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উন্নত চরিত্র গঠন এবং সর্বোপরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।