ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ওসির চেয়ারে একজন সংসদ সদস্যের বসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে চেয়ারে বসা নিয়ে এমপি ও ওসি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর তার চেয়ারে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একই সময়ে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহও ওসির চেয়ারে বসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল ফুলপুর থানার ওসি ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে প্যারেডে অংশ নিতে সকাল সোয়া ৭টায় ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহে যান। পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ থানায় উপস্থিত হন এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। থানায় ওসির চেয়ারের পাশে অন্য চেয়ার খালি থাকা সত্ত্বেও তিনি ওসির চেয়ারে বসেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মতবিনিময় করে চলে যান।
ওসির চেয়ারে বসার ভিডিওটি ঘটনার দিন (৫ এপ্রিল) ফেসবুকে পোস্ট করা হয়নি। তবে গত সোমবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির চেয়ারে বসে আছেন সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। তার পাশে থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা বসে আছেন। এ সময় তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তিনি এমপি হয়ে একজন ওসির চেয়ারে বসেছেন, আর ওসি দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাহলে স্বৈরতন্ত্র উঠলো কোথায়? প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, নাকি এমপির কথামতো চলবে— এটা কি মগের মুল্লুক?’
কামরুল ইসলাম খান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘ফুলপুরে ওসির চেয়ারে এমপির বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। একজন ওসির চেয়ারের পাশাপাশি আলাদা একটি চেয়ার থাকে, যা এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত।’
‘তারাকান্দা লাইভ’ নামের আরেকটি পেজ থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ ওসির চেয়ারে বসে পুলিশকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল। ফুলপুর থানার এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।’
এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ‘ওই দিন পুলিশ লাইনে আমার মাস্টার প্যারেড ছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আমি পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ওই দিন সংসদ সদস্যের থানায় আসার কোনো পূর্বসূচি ছিল না, কিংবা আমাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এমপি সাহেবের গাড়ি থানা প্রাঙ্গণে ঢোকার পর তাকে জানানো হয়, ওসি থানায় নেই। তারপরও তিনি থানায় প্রবেশ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কক্ষে ঢুকে প্রথমে তিনি আমার চেয়ারে বসতে ইতস্তত বোধ করেন। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে আমার চেয়ারে বসতে বলেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ বসে কথা বলে চলে যান। এমপি আপনার চেয়ারে বসতে পারেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ওসির চেয়ার ওসি ছাড়া অন্য কারও বসার কথা নয়।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ‘ওই দিন আমি থানা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওসি থানায় নেই। আমি চলে আসতে চাইলে সেখানে থাকা কর্মকর্তারা আমাকে জোর করে ওসির চেয়ারে বসান। পরে আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চলে আসি। তবে ওসির চেয়ারে বসা কোনো অপরাধ নয়।’



