ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাঁশের খুঁটি-কলাগাছ ও বালুর বস্তা ফেলে রেললাইন সংস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে বাঁশের খুঁটি-কলাগাছ ও বালুর বস্তা ফেলে রেললাইন সংস্কার করা হয়েছে। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সাধারণত বাঁশের খুঁটি, কলাগাছ ও বালুর বস্তা দিয়ে রাস্তাঘাট, পুকুরপাড় ও বাঁধ সংস্কার করতে দেখা যায়। তবে এবার ঘটেছে ভিন্ন ধরনের ঘটনা। ময়মনসিংহের নান্দাইলে সংস্কার কাজে রেললাইনে বাঁশের খুঁটি, কলাগাছ ও বালুর বস্তা ফেলে ব্যবহার করা হয়েছে।

ভৈরব-ময়মনসিংহ রেললাইনের ৭৫ কিলোমিটার অংশের নান্দাইল উপজেলার শুভখিলা নামক স্থানে এমন ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজে জানা যায়, রেললাইনের পাশে বেশ কিছু অংশ মাটি বিহীন হয়ে রেলে দেওয়া পাথর সরে যায়। ফলে দ্রুত বেগে রেল গেলে ওই স্থানে বিকট শব্দ হয় এবং ট্রেন ওপর-নিচু হয়ে যেতে থাকে।

এতে তখন ট্রেনের ভিতরে যাত্রী ছাড়াও বাইরে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও মানবসৃষ্ট ক্রটির কারণে দিন দিন রেললাইনটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়রা পাশের আঠাবাড়ি রেলস্টেশনে ঘটনাটি অবহিত করলে দীর্ঘদিন পরে স্থানীয় রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে ওই স্থানের রেললাইনের নিচু অংশের দুই পাশে প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে তা নিচু জায়গায় ফেলা হয়। পরে সেখানে বস্তাগুলি আটকে রাখতে কলাগাছ ফেলে, গাছের ডাল পুঁতে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়।

ময়মনসিংহে বাঁশের খুঁটি-কলাগাছ-বালুর বস্তা ফেলে রেললাইন সংস্কার করা হয়েছে। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

স্থানীয়রা জানায়, প্রথম দিনেই দ্রুতগামী বিজয় এক্সপ্রেসের চলাচলে বিকট শব্দ অব্যাহত থাকে। রেললাইনকে ধরে রাখার জন্য পাথর ও ব্যালাস্ট ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা না করে কলাগাছ ও বালুর বস্তা দিয়ে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এতে এটি অনিয়ম ও খামখেয়ালিপনার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘কলাগাছ দিয়ে সংস্কার কাজ হওয়া উচিত নয়। বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পেরে আমি অনুরোধ করেছি, প্রতিনিধিকে ওই স্থানের ছবি আমার ওয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর জন্য। পরে ছবি দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি, এভাবে সংস্কারের কথা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এটি করেছে তাদের খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই স্থানে মাটি সরে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে স্থানীয় বসবাসকারী লোকজনকে দায়ী করা হয়েছে। মানবসৃষ্ট ক্রুটির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’