উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকরা প্রধান ফসল ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সার পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্যে পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। তবে অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি থাকায় কিছুটা হতাশা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সার-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুজন ডিলারকে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার প্রতিটি এলাকার সার ডিলারের কার্যক্রম মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মোস্তাকিমা খাতুন জানান, শুধু বোরো মৌসুমেই নয়, সারা বছরই সার বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সারের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া-৪০৮৬ টন, টিএসপি-৯১৯ টন, ডিএপি-২৩৭৪ টন এবং এমওপি-১৬৫৫ টন।
বর্তমানে বাজারে প্রতি ৫০ কেজি ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকা, টিএসপি ও ইউরিয়া ১৩৫০ টাকা এবং এমওপি ১০০০ টাকায়। বরাদ্দকৃত সার উপজেলা পৌঁছানোর পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি ডিলারের দোকানে নামিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করছেন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মজুত মনিটরিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে দুজন ডিলারকে ইতোমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের জমিতে সারের সঠিক পরিমাণ প্রয়োগ, চারা রোপণ ও অন্যান্য কৃষি বিষয়ে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলার একডালা ইউনিয়নের কৃষক আহাদ আলী, কালিগ্রাম ইউনিয়নের মুহম্মদ আসলাম এবং সদর ইউনিয়নের চাঁন খান জানিয়েছেন, শীতের কারণে বীজতলার কোনো ক্ষতি হয়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী যত্ন নেওয়ায় বীজতলা রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়া তারা বাজার থেকে সরকারি মূল্যেই সারের প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করছেন।
সিংড়ারপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাক হোসেন জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে। তবে কিছু কৃষক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার মজুত করলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম কমলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা তৈরি না করতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া পানি সেচ ও কৃষিকাজে অরাজকতা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


