ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মেহেদী ইসলাম (৩২)-কে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আমেনা বেগম কেরাবো এলাকার মুদি ব্যবসায়ী বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। অপরদিকে, গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুল দেওয়ান নিজ বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। ওই ভবনের টাইলসের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মেহেদী ইসলামকে। তিনি কয়েকদিন আগে সেই কাজ শেষ করেন।

শুক্রবার বিকেলে চুরির উদ্দেশ্যে মেহেদী ইসলাম পুনরায় ওই বাড়িতে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আমেনা বেগমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করেন মেহেদী। এ সময় মেহেদীকে হাতে-নাতে ধরে ফেলায় আমেনা বেগমের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মেহেদী তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আমেনা বেগমের গলায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন।

তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেহেদী ইসলামকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে আহত আমেনা বেগমকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গ-সার্কেলের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মেহেদী ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। পুরো ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।