ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সীমান্ত এলাকাসহ সারাদেশে অভিযানিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অসাধু মজুতদার, কালোবাজারি ও পাচারকারী চক্রের অপতৎপরতা রোধ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সংস্থাটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ দল।
অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামের দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়, যা ৯টি ব্যারেলে সংরক্ষিত ছিল। এ সময় স্থানীয় বাজার থেকে খোলা তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে মজুদ, বোতলজাতকরণ এবং ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামে স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ০৯২ লিটার মোট ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করে সংস্থাটি সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্য তেল পাচার ও অবৈধ মজুত প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ও বিশেষ টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তবর্তী গুদামে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
এ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের বাইরেও যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পাচারের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও সংস্থাটির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।


