নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিন যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: চরমধুয়া ইউনিয়নের সমীবাদ এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে মো. রাহিম (১৮), আইয়ুব মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৮) এবং গাজীপুরা এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে ত্রিসাদ (২০)।
এ ছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত সমীবাদ এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে সাজিদ (১৯) ও গাজীপুরার বাবুল তালুকদারের ছেলে শাহ পরান (২০) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিনি চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান (২৮) তার মুখ চেপে ধরেন। এরপর তাকে বাড়ির সামনে খড়কুটার গাদার মধ্যে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ওই সময় রাহিম (১৮) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সাজিদ ওই তরুণীর পরনের কাপড় টেনে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিক থেকে ভুক্তভোগী তরুণী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা গত ১৬ জানুয়ারি রাতে গাজীপুরা বাজার এলাকা থেকে রাহিম, মাহবুবুর ও ত্রিসাদকে আটক করেন। পরে থানায় খবর দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টার সময় অভিযুক্তরা ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে তারা তিন জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। গতকাল আটককৃতদের পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন