ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৯:১২ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ মো. নূর সাখাওয়াত হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পেছনে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে একই সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিকরাও।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় এলাকার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

সন্ত্রাসীরা অধ্যক্ষকে টেনে-হিঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে বারান্দায় নিয়ে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এলাকার আমজাদ হোসেন, নাজমুল হোসেন বাদল, আব্দুল জলিল, জুয়েল, আল আমিন, মিল্লাত ভূইয়া ও হাসনাত ভূইয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অফিস কক্ষে ঢুকে তার নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধন চলাকালে আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে নারী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে এবং ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে। এ সময় ঘটনাটির ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

রায়পুরা থানা পুলিশের ওসি মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।